ঢাকা অর্থনীতি ডেস্ক:
বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় মহাযজ্ঞ ফিফা বিশ্বকাপের পর্দা উঠতে আর মাত্র ২ দিন বাকি। বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ফুটবল ভক্তের উন্মাদনা বাড়াতে আসন্ন এই টুর্নামেন্টের পাঁচটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও আকর্ষণীয় তথ্য পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো।
এক, ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে এবারই প্রথম ৪৮টি দেশ মূল পর্বে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে, যা ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপের ৩২টি দলের চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। নতুন এই নিয়ম ও ফরম্যাটে চারটি করে দল নিয়ে মোট ১২টি গ্রুপ গঠন করা হয়েছে। যার ফলে টুর্নামেন্টের মোট ম্যাচের সংখ্যা ৬৪ থেকে এক লাফে বেড়ে দাঁড়াচ্ছে ১০৪টিতে। স্বাভাবিকভাবেই ম্যাচ বাড়ায় টুর্নামেন্টের সময়সীমাও দীর্ঘায়িত হচ্ছে এবং এবারের আসরটি চলবে মোট ৩৯ দিন ধরে।
দুই, ইতিহাসের প্রথম ট্রিপল-হোস্ট বা যৌথ আয়োজক হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডা একসঙ্গে এই ফিফা বিশ্বকাপ আয়োজন করতে যাচ্ছে। এর আগে দুটি দেশ মিলে বিশ্বকাপ আয়োজন করলেও, তিনটি দেশ যৌথভাবে এই বৈশ্বিক টুর্নামেন্ট আয়োজন করার ঘটনা এটিই প্রথম।
তিন, এবারের আসরে যোগ্যতা অর্জনকারী দলগুলোর মধ্যে জনসংখ্যার দিক থেকে এযাবৎকালের সবচেয়ে ক্ষুদ্রতম দেশ হিসেবে ইতিহাস গড়েছে কুরাকাও। মাত্র ১ লাখ ৫৬ হাজার জনসংখ্যার এই দ্বীপ রাষ্ট্রটি বিশ্বের বহু সাধারণ শহরের চেয়েও আকারে ছোট। তবে এই স্বল্প জনসংখ্যা নিয়েও তারা ২০২৬ সালের মূল আসরে বিশ্ব ফুটবলের বাঘা বাঘা দলগুলোর বিরুদ্ধে মাঠ কাঁপাবে।
চার, দীর্ঘ ৫২ বছর পর বাছাই পর্বের কঠিন দেয়াল টপকে ফুটবল বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে ফিরছে দুটি দেশ—ডিআর কঙ্গো ও হাইতি। এই দুটি দলই সর্বশেষ ১৯৭৪ সালের বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিল। ফলে ২০২৬ সালের এই মেগা আসরে যোগ দেওয়ার মাধ্যমে দল দুটির দীর্ঘ ৫০ বছরেরও বেশি সময়ের অপেক্ষার অবসান ঘটছে।
পাঁচ, ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপে সম্পূর্ণ নতুন চার জোড়া চোখের দেখা মিলবে, অর্থাৎ চারটি দেশ এবার বিশ্বকাপে অভিষেক করতে যাচ্ছে। ঐতিহাসিক এই দলগুলো হলো—কেপ ভার্দে, কুরাকাও, জর্দান ও উজবেকিস্তান। ফুটবল অঙ্গনে বছরের পর বছর অক্লান্ত পরিশ্রম ও সাধনার পর এই দেশগুলোর জন্য এটি একটি স্মরণীয় মুহূর্ত। সাধারণত এই ধরণের নবাগত দলগুলো টুর্নামেন্টে নতুন প্রাণশক্তি নিয়ে আসে এবং কোনো রকম বাড়তি চাপ ছাড়াই নিজেদের সেরাটা ঢেলে দেয়।










কমেন্ট করুন