ঢাকা অর্থনীতি ডেস্ক:
আন্তর্জাতিক পরমাণু কমিশনের (আইএইএ) বোর্ড অব গভর্নরসের বিশেষ বৈঠকে ইরানের নিরাপত্তা তদারকির আওতাভুক্ত পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে তেহরান। একই সঙ্গে এ ধরনের হামলা ও হুমকির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স নীতি’ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে দেশটি। ইরানের মতে, শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনায় হামলাকে স্বাভাবিক করে তোলা বৈশ্বিক পরমাণু অস্ত্র বিস্তাররোধ ব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করবে।
আইএইএর বোর্ড অব গভর্নরসের বিশেষ অধিবেশনে ইরানের প্রতিনিধি দল জানায়, সংস্থাটি প্রতিষ্ঠার পর নিরাপত্তা তদারকির আওতাভুক্ত পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর বিরুদ্ধে পরিচালিত হামলাগুলোর মধ্যে এসব হামলা ছিল “সবচেয়ে ব্যাপক ও নজিরবিহীন”। এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃঢ় ও কার্যকর প্রতিক্রিয়া কামনা করে তারা।
বৈঠকে ইরানি প্রতিনিধিরা ১৯৮১ সালে ইরাকের পারমাণবিক স্থাপনায় ইসরায়েলের হামলার ঘটনায় আইএইএর পূর্ববর্তী নিন্দা ও অবস্থানের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তারা উল্লেখ করেন, আইএইএর বোর্ড অব গভর্নরস এবং সাধারণ সম্মেলন বিভিন্ন প্রস্তাবে নিরাপত্তা তদারকির আওতাধীন পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা কিংবা হামলার হুমকিকে জাতিসংঘ সনদ, আন্তর্জাতিক আইন ও আইএইএ সংবিধির পরিপন্থী বলে বিবেচনা করেছে।
ইরানি প্রতিনিধিদের দাবি, ১২ দিনের যুদ্ধ এবং রমজান যুদ্ধ চলাকালে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল নিরাপত্তা তদারকির আওতাভুক্ত পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর বিরুদ্ধে মোট ১৭ দফা হামলা চালায়। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব হামলার মধ্যে সবচেয়ে বিপজ্জনক একটি সংঘটিত হয় বুশের নিউক্লিয়ার পাওয়ার পয়েন্টের কাছে। হামলাটি রিয়্যাক্টর থেকে প্রায় ৩৫০ মিটার দূরে আঘাত হানে এবং এতে হতাহতের ঘটনাও ঘটে।
ইরানের প্রতিনিধি দল আরও জানায়, আইএইএর মহাপরিচালক আগেই বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে সরাসরি হামলার সম্ভাব্য পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, এ ধরনের হামলা পরিবেশে ব্যাপক মাত্রায় তেজস্ক্রিয় পদার্থ ছড়িয়ে পড়ার কারণ হতে পারত।
সূত্র: প্রেস টিভি










কমেন্ট করুন