ঢাকা অর্থনীতি ডেস্ক:
জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনের সময় অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ঘোষণা দেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকেই সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন করা হবে। ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে এটি কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে।
জানা গেছে, সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন পে-স্কেল কীভাবে বাস্তবায়ন হবে, সেই ধাপ চূড়ান্ত করবে মন্ত্রিসভা। আগস্টের দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে এ বিষয়ে গেজেট জারি হতে পারে। তবে বাস্তবায়ন যেভাবেই হোক, এটি ১ জুলাই থেকেই কার্যকর হবে।
বুধবার (১৫ জুলাই) জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫ সুপারিশ প্রণয়ন কমিটির সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে।
বৈঠক সূত্রে জানা যায়, নতুন পে-স্কেল নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ইতোমধ্যে হয়েছে। এখন সচিব কমিটি আরও দুই থেকে তিন দিন কারিগরি বিভিন্ন বিষয় বিশ্লেষণ করবে। এরপর চলতি মাসের শেষ সপ্তাহ বা আগস্টের প্রথম সপ্তাহে কমিটির সুপারিশ মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে। সেখানে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের ধাপসহ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর প্রস্তাবটি আইনি পরীক্ষা-নিরীক্ষার (ভেটিং) জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। পরে প্রধানমন্ত্রী সারসংক্ষেপ অনুমোদন করলে গেজেট জারি করা হবে।
অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, শুরুতে বাস্তবায়ন কমিটি নতুন বেতন কাঠামো তিন ধাপে কার্যকরের সুপারিশ করেছিল। পরে তা দুই ধাপে বাস্তবায়নের প্রস্তাব দেওয়া হয়। সর্বশেষ বুধবারের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে মন্ত্রিসভা। কারণ, বর্তমানে ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী এবং ৯ লাখ পেনশনভোগীর জন্য এক লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হলেও নতুন কাঠামো বাস্তবায়নে অতিরিক্ত এক লাখ ছয় হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হবে বলে কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। সেই অর্থের সংস্থান কীভাবে করা হবে, তা মন্ত্রিসভার বৈঠকেই নির্ধারণ করা উচিত বলে মত দিয়েছেন সচিব কমিটির সদস্যরা।
বৈঠক শেষে কমিটির এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সরকারি চাকরিজীবীদের প্রায় ১১ বছর ধরে বেতন বাড়েনি। তাই নতুন পে-স্কেলে যেন কারও বঞ্চনা বা ক্ষোভ না থাকে, সে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এ কারণে আরও দুই থেকে তিনটি সভা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর আগস্টের শুরুতে গেজেট প্রকাশ করা হতে পারে। তিনি বলেন, বাড়তি বেতন-ভাতা দেওয়ার সঙ্গে অনেক অর্থের সংশ্লেষ রয়েছে। এর সঙ্গে সরকারের সক্ষমতার বিষয় আছে। তাই নতুন পে-স্কেল কয় ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে, সে বিষয়ে সচিব কমিটি কোনো মতামত দেবে না। এ বিষয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।
জানা গেছে, নতুন বেতন কাঠামোয় শুধু মূল বেতন নয়, বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষা, যাতায়াতসহ বিভিন্ন ভাতা পুনর্বিন্যাসের প্রস্তাবও রয়েছে। এসব সুবিধা কার্যকরের জন্য একাধিক এসআরও (বিধিবদ্ধ নিয়ন্ত্রক আদেশ) জারি করতে হবে। অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, বুধবারের বৈঠক শেষে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন-সংক্রান্ত এসআরও এবং বিধিবিধানের খসড়া প্রস্তুতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কিছু ক্ষেত্রে আগের পে-স্কেলের চিত্রও তুলে ধরতে বলা হয়েছে। অর্থ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কমিটির নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করছেন।










কমেন্ট করুন