ঢাকা অর্থনীতি ডেস্ক:
প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের নেতৃত্বে পাকিস্তানের একটি প্রতিনিধিদল সুইজারল্যান্ডের জুরিখে পৌঁছেছে। রোববার ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়ন বিষয়ক উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় অংশ নেবেন তিনি। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় (পিএমও) এই তথ্য জানিয়েছে।
পিএমওর তথ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী এবং পাকিস্তান সেনাবাহিনীর প্রধান ও প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়নবিষয়ক এই উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় অংশগ্রহণ করবেন।
এর আগে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, সুইজারল্যান্ডের বুর্গেনস্টকে অবস্থানকালে প্রধানমন্ত্রী ইরান, যুক্তরাষ্ট্র, কাতার এবং সুইজারল্যান্ডের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন। আলোচনাগুলো প্রথমে শুক্রবার অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে সুইজারল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পরে জানায়, নির্ধারিত সময়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে না, যদিও এর কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানায়নি তারা।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতে, এসব বৈঠকের উদ্দেশ্য হলো সংলাপ ও অঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী শান্তির প্রতি পাকিস্তানের অবিচল প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করা।
শনিবার রাতে ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরকে সঙ্গে নিয়ে সুইজারল্যান্ডের উদ্দেশে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই বৈঠককে ২০২৬ সালের ১৭ জুন স্বাক্ষরিত ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকের পর “প্রথম আনুষ্ঠানিক সম্পৃক্ততা” হিসেবে বর্ণনা করেছে। ইরান, কাতার এবং যুক্তরাষ্ট্রের জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধিদলের অংশগ্রহণে এই আলোচনা চুক্তি স্বাক্ষরের পর প্রথম আনুষ্ঠানিক ফলো-আপ বৈঠক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, “পাকিস্তান ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে অর্জিত সমঝোতাগুলোর বাস্তবায়নে সহায়তা ও অগ্রগতি অব্যাহত রাখবে।” ইসলামাবাদের কূটনৈতিক ভূমিকার কথা তুলে ধরে মন্ত্রণালয়টি আরও বলেছে, সংকটকালে পাকিস্তানের “নীতিগত, ভারসাম্যপূর্ণ ও গঠনমূলক” অবস্থানেরই প্রতিফলন ছিল এই মধ্যস্থতামূলক প্রচেষ্টা। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার পূর্ববর্তী দফাগুলো আয়োজন এবং ধারাবাহিক কূটনৈতিক যোগাযোগ অন্তর্ভুক্ত ছিল, যা শেষ পর্যন্ত ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকে পৌঁছায়।
গত বৃহস্পতিবার মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’-এ স্বাক্ষর করেন প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ, যার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক অগ্রগতি আনুষ্ঠানিক রূপ পায়।
অন্যদিকে শান্তি আলোচনার বাইরে থাকা ইসরায়েল এই যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা থেকে নিজেদের দূরে রেখেছে। একই সঙ্গে তারা লেবাননে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে লড়াই অব্যাহত রেখেছে, যা চুক্তির স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে। সংঘাতটি দ্রুত আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নেয় এবং এতে ইরান ও লেবাননসহ বিভিন্ন স্থানে সাত হাজারেরও বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটে বলে দাবি করা হয়েছে। একই সঙ্গে জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি, মুদ্রাস্ফীতির চাপ এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোতে খাদ্যসংকটের আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।
১৪ দফার এই সমঝোতায় এপ্রিল মাসে ঘোষিত যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৬০ দিন বাড়ানো হয়েছে, যার মধ্যে লেবাননও অন্তর্ভুক্ত। উদ্দেশ্য হলো উভয় পক্ষকে একটি স্থায়ী শান্তিচুক্তি নিয়ে আলোচনার সুযোগ দেওয়া।
মার্কিন ও ইরানি কর্মকর্তাদের মতে, ডোনাল্ড ট্রাম্প ও মাসউদ পেজেশকিয়ান ইংরেজি ও ফারসি ভাষায় ডিজিটাল স্বাক্ষরের মাধ্যমে স্মারকটি অনুমোদন করেছেন। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বুধবার থেকেই চুক্তিটি কার্যকর হয়েছে।
ট্রাম্প ফ্রান্সে জি-৭ সম্মেলনে অংশগ্রহণের সময় চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। পরে তিনি বলেন, ইরান চুক্তি লঙ্ঘন করলে যুক্তরাষ্ট্র পুনরায় সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে। এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, “তারা যদি চুক্তি ভঙ্গ করে, তাহলে আমরা তাদের ওপর ব্যাপক হামলা চালাব। আমি সেটা চাই না; আমি চাই তারা চুক্তি মেনে চলুক।” তবে একইসঙ্গে তিনি ইরানিদের “বুদ্ধিমান মানুষ” বলেও উল্লেখ করেন এবং আশা প্রকাশ করেন যে আগামী ৬০ দিনের আলোচনা মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও তেলের দাম কমাতে সহায়তা করবে।
ইরানের নেতারা নতুন এই হুমকি সম্পর্কে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি। বরং তারা চুক্তিটিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক মুহূর্ত হিসেবে উদযাপন করেছেন এবং এমন কিছু ছবি প্রকাশ করেছেন, যা ১৯৭৯ সালে ইসলামী প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পর কোনো মার্কিন ও ইরানি প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরিত প্রথম চুক্তির নিদর্শন বলে মনে করা হচ্ছে।
সূত্র: এক্সপ্রেস ট্রিবিউন










কমেন্ট করুন