ঢাকা অর্থনীতি ডেস্ক:
বিশ্বজুড়ে স্বর্ণের মূল খাতগুলো থেকে এই মূল্যবান ধাতুটির চাহিদা ধারণার চেয়েও বেশ দুর্বল থাকতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে শীর্ষ মার্কিন ব্যাংক জেপি মরগান। আর এই লাগামহীন চাহিদার ঘাটতির কারণেই ব্যাংকটি চলতি বছরের জন্য স্বর্ণের দামের আগের পূর্বাভাসটি কমিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জেপি মরগানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ বাজারগুলো থেকে স্বর্ণের যে পরিমাণ চাহিদা তারা আশা করেছিল, বাস্তব পরিস্থিতি ততটা শক্তিশালী হবে না। যার ফলশ্রুতিতে, চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম আউন্সপ্রতি ৪,৩০০ ডলার এবং শেষ বা চতুর্থ প্রান্তিকে ৪,৫০০ ডলারের ভেতরেই সীমাবদ্ধ থাকতে পারে।
এর পূর্বে গত ৯ জুন দেওয়া এক পূর্বাভাসে জেপি মরগান আভাস দিয়েছিল যে, চলতি বছর শেষে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম আউন্সপ্রতি সর্বোচ্চ ৬ হাজার ডলারে গিয়ে ঠেকতে পারে। অন্য দিকে, গত শুক্রবার (৩ জুলাই) স্পট মার্কেটে স্বর্ণের বাজারমূল্য ১ দশমিক ৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৭৪ দশমিক ২১ ডলারে এসে দাঁড়িয়েছে, যা গত ২৩ জুনের পর এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ রেকর্ড। চলতি সপ্তাহে এখন পর্যন্ত মূল্যবান এই বুলিয়নের দাম সামগ্রিকভাবে ২ শতাংশের বেশি ওপরে উঠেছে।
ব্যাংকটির অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাজারে উচ্চ সুদের হারের যে প্রবণতা চলছে, তা লভ্যাংশহীন এই মূল্যবান ধাতুর ওপর এক ধরনের বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে। কারণ এই পরিস্থিতিতে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা সাধারণত যে সমস্ত সম্পদ থেকে বেশি মুনাফা বা রিটার্ন পাওয়া যায়, সেগুলোর দিকেই বেশি ঝুঁকে পড়েন।
অবশ্য দীর্ঘমেয়াদি পরিক্রমায় স্বর্ণের বাজার নিয়ে এখনও এক প্রকার ইতিবাচক ও আশাবাদী অবস্থান বজায় রেখেছে জেপি মরগান। মার্কিন এই ব্যাংকটির মতে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর পক্ষ থেকে ধারাবাহিকভাবে স্বর্ণ কিনে মজুত করা এবং ধাতুটির প্রকৃত ব্যবহারিক চাহিদা শক্তিশালী থাকার কারণে আগামী ২০২৭ সালে স্বর্ণের দাম আরও এক দফা ঊর্ধ্বমুখী হতে পারে।
শুধু সোনা নয়, রুপার বাজার নিয়েও বেশ ইতিবাচক এক ভবিষ্যৎ বাণী করেছে এই বৈশ্বিক ব্যাংকটি। তাদের মূল্যায়ন অনুযায়ী, রুপার বাজার গত বছরের মন্দা ও কঠিন পরিস্থিতি কাটিয়ে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক ছন্দে ফিরতে শুরু করবে এবং স্বর্ণ ও রুপার মধ্যকার মূল্যের যে আনুপাতিক ব্যবধান, তা সমতায় আসবে। এর ফলে পূর্বাভাস দেওয়া এই সময়সীমার মধ্যে রুপার গড় বাজারমূল্য প্রতি আউন্স ৬০ থেকে ৬৫ ডলারের ঘরে অবস্থান করতে পারে।
একই সাথে প্ল্যাটিনামের দাম বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও বেশ জোরালো সম্ভাবনা দেখছে জেপি মরগ্যান। দক্ষিণ আফ্রিকার অভ্যন্তরীণ সরবরাহসংক্রান্ত মৌলিক ইতিবাচক দিকগুলোর ওপর ভর করে ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ প্ল্যাটিনামের গড় মূল্য প্রতি আউন্স প্রায় ১ হাজার ৮০০ ডলার এবং ২০২৭ সালের সমাপ্তি লগ্নে তা আরও বৃদ্ধি পেয়ে আউন্সপ্রতি প্রায় ১ হাজার ৯৫০ ডলারে গিয়ে পৌঁছাতে পারে।
বিপরীত দিকে, মার্কিন এই ব্যাংকটির প্রাক্কলন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শেষ দিকে প্যালাডিয়ামের দাম প্রতি আউন্স ১ হাজার ৩৫০ ডলারে গিয়ে ঠেকবে। আর ২০২৭ সাল জুড়ে এর গড় দাম প্রতি আউন্স প্রায় ১ হাজার ৩০০ ডলারে স্থির থাকতে পারে, যা মূলত মূল্যবান ধাতুর বৈশ্বিক বাজারের সামগ্রিক মন্দা বা দুর্বলতার সমীকরণের সঙ্গেই সামঞ্জস্যপূর্ণ।
সূত্র: রয়টার্স










কমেন্ট করুন