Dhaka Orthoniti | ঢাকা অর্থনীতি

দিল্লি বিমানবন্দরে প্রটোকল না পাওয়ায় ফিরে আসার ঘটনা স্পষ্ট করলেন তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ

ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা অর্থনীতি ডেস্ক:

ভারতের দিল্লি বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণের মুখে পড়ার বিষয়ে অবশেষে বিস্তারিত মুখ খুলেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, দিল্লি বিমানবন্দরে তাকে কোনো কক্ষে আটকে রাখা বা জেরা করা হয়নি। তবে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হিসেবে যে ধরনের কূটনৈতিক সম্মান ও প্রটোকলগত আচরণ প্রত্যাশিত ছিল, তা তিনি পাননি। ফলশ্রুতিতে আত্মসম্মান ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদার প্রশ্নে তিনি ভারতে প্রবেশ না করে তাৎক্ষণিকভাবে দেশে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেন।

দিল্লিতে অনুষ্ঠিতব্য ইন্ডিয়ান ওশান রিম অ্যাসোসিয়েশনের (আইওআরএ) সম্মেলনে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতা হিসেবে অংশ নেওয়ার কথা ছিল ডা. জাহেদ উর রহমানের। তার এই সফরের বিষয়টি আগেভাগেই শুক্রবার (১২ জুন) দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে কূটনৈতিক পত্রের মাধ্যমে অবহিত করা হয়েছিল। এত সব আনুষ্ঠানিকতার পরও রোববার (১৪ জুন) সন্ধ্যায় দিল্লি বিমানবন্দরে অবতরণের পর তাকে রহস্যজনক কারণে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ প্রায় আড়াই ঘণ্টা বসিয়ে রাখে। এমনকি তাকে দিল্লিতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়েও ইমিগ্রেশনের পক্ষ থেকে কোনো স্পষ্ট তথ্য দেওয়া হয়নি।

এই উদ্ভূত পরিস্থিতিকে নিজের এবং বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় মর্যাদার সাথে সংশ্লিষ্ট বলে মনে করেন ডা. জাহেদ। এই কারণে তিনি ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নিজের পাসপোর্ট ফেরত চান এবং ভারতে প্রবেশ না করে সরাসরি ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

তিনি জানান, তার এই অনড় সিদ্ধান্তের পর ভারতীয় কর্মকর্তারা একাধিকবার আন্তরিকতার সাথে তাকে ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ভারতে প্রবেশের অনুরোধ জানান। কিন্তু তিনি নিজের সিদ্ধান্ত থেকে বিন্দুমাত্র নড়েননি। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা বারবার তাকে অনুরোধ জানালেও তিনি নিজের সিদ্ধান্তে অটল থাকেন। এরপর এয়ার ইন্ডিয়ার একটি ফ্লাইটে রোববার রাতেই তিনি কলম্বোর উদ্দেশে রওনা দেন এবং সেখান থেকে শ্রীলঙ্কান এয়ারলাইনসের ফ্লাইটে সোমবার (১৫ জুন) বেলা পৌনে ১২টার দিকে ঢাকায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন।

আজকের ব্রিফিংয়ে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে ‘হেনস্থা’ হিসেবে উল্লেখ করে সাংবাদিকেরা প্রশ্ন করলে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, “ওখানে কোনো রুমে নিয়ে আটকে রাখা হয়েছে বা জেরা করা হয়েছে—বিষয়টি একদম তেমন নয়। একটা জায়গায় বসতে দেওয়া হয়েছিল। আমার সঙ্গে দৃশ্যত কোনো দুর্ব্যবহার করা হয়েছে তাও বলব না, তবে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হিসেবে প্রটোকল অনুযায়ী আমার সঙ্গে যে ট্রিট করার কথা ছিল, সেটি করা হয়নি।”

পরিস্থিতি যাতে আরও জটিল রূপ না নেয়, সেই বিষয়ে সচেতন ছিলেন উল্লেখ করে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, “আমি সিচুয়েশনটাকে বেশি খারাপ করতে চাইনি এবং সেই বার্তাও ওদের দিয়ে এসেছি। চাইলে আমরা আমাদের পুরো প্রতিনিধিদলকে সম্মেলন থেকে প্রত্যাহার করে নিতে পারতাম, কিন্তু তা করা হয়নি। আমার সঙ্গে যে আচরণ হয়েছে, তার একটি তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া আমি সেদিনই দেখিয়েছি।” তবে এই অপ্রীতিকর ঘটনার পরও ভবিষ্যতে ভারত সরকার যদি যথাযথ সম্মান প্রদর্শনপূর্বক আমন্ত্রণ জানায়, তবে তিনি আবারও দেশটিতে সফর করবেন বলে জানান।

এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার প্রেক্ষিতে ভারতের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ভুল স্বীকার বা ক্ষমা চাওয়া উচিত কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ডা. জাহেদ বলেন, বিষয়টি পুরোপুরি কূটনৈতিক। তার মতে, রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কী ধরণের পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় খতিয়ে দেখছে। বিষয়টি রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে আলোচনা ও কূটনৈতিক যোগাযোগের মাধ্যমেই সমাধান করা হবে।

ইতিমধ্যে এই ঘটনাটি দুই দেশের কূটনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে এই বিষয়ে ভারত সরকারের অফিশিয়াল বা আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা এখনো পর্যন্ত প্রকাশ্যে আসেনি।

ঢাকা অর্থনীতি

কমেন্ট করুন