শ্রীবরদী (শেরপুর) সংবাদদাতা:
বিদ্যুৎ সংযোগ থাকলেও জ্বলছে না বাতি। রাত নামলেই অন্ধকারে ডুবে যায় শ্রীবরদী পৌর এলাকা। পৌরসভার পুরোনো বিদ্যুৎ লাইনগুলো দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। সামান্য বৃষ্টি বা ঝড়ো বাতাসেই বিভিন্ন এলাকার রাস্তা ও অলিগলি আলোহীন হয়ে পড়ে। এই অন্ধকারের সুযোগে দিন দিন বাড়ছে মাদক বেচাকেনা, চুরি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা।
জানা গেছে, পৌরসভার কলেজ মহল্লা, উত্তর শ্রীবরদী, খামারিয়াপাড়া, মুন্সিপাড়া, ফতেহপুর, তারাকান্দি, চড়িয়াপাড়া, কালাকান্দা, পোড়াগড়, আটাকান্দ, নয়াপাড়া, জালকাটা, শেখদী ও তাতিহাটিসহ একাধিক এলাকার সড়কে আলোর ব্যবস্থা কার্যত ভেঙে পড়েছে। রাত হলেই এসব এলাকায় মাদকসেবীদের আড্ডা জমে ওঠে এবং চুরি-ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে।
এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে শ্রীবরদী পৌরসভা ৩ কোটি ৬ লাখ ৬১ হাজার ১৫৫ টাকা ব্যয়ে ৪ হাজার মিটার দৈর্ঘ্যের এলইডি স্মার্ট লাইট স্থাপনের উদ্যোগ নেয়। সম্প্রতি প্রকল্পের কাজ সম্পন্নও হয়। তবে স্থাপনের পর মাত্র ৪-৫ দিন জ্বালানোর পরই বাতিগুলো স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
পৌরকর্তৃপক্ষের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে, অতিরিক্ত বিদ্যুৎ খরচই এর মূল কারণ। প্রতি রাতে এই বাতিগুলো জ্বাললে বিদ্যুৎ বিল আসে প্রায় ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা।
পৌরসভার বাসিন্দা আরাফাত হোসাইন বলেন, “বিদ্যুৎ থাকতেও পৌরসভার রাস্তাঘাট অন্ধকার থাকে। এতে করে চোরের উপদ্রব বৃদ্ধি পেয়েছে। কয়েক দিন আগেও আমার বাড়ি কাছ থেকে ট্রাকের পাতি চুরি করে নিয়ে গেছে। ছিনতাইয়ের ঘটনাও ঘটছে।”
উত্তর শ্রীবরদীর বাসিন্দা খোরশেদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “রাত হলেই চারদিকে অন্ধকার হয়ে যায়। ২২ বছর পরও যদি একটি পৌরসভার এ অবস্থা হয় তাহলে মানুষ কী সেবা পাবে?”
শ্রীবরদী পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনীষা আহমেদ বলেন, “এলইডি স্মার্ট লাইটগুলো খুবই ব্যয়বহুল। দৈনিক প্রায় ৩-৪ হাজার টাকা বিদ্যুৎ বিল আসে। পৌরসভার আর্থিক সমস্যা থাকায় বাতিগুলো সচল রাখা সম্ভব হচ্ছে না।” তিনি আরও জানান, “পুরোনো বাতি ও লাইন মেরামতের জন্য চার সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। কিছু সমস্যা রয়েছে। দ্রুতই সমস্যাগুলোর সমাধান হবে।”










কমেন্ট করুন