তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিবেদকঃ
দ্রুত পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক অর্থনীতি, প্রযুক্তিনির্ভর কর্মক্ষেত্র এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) বিস্তারের ফলে চাকরির বাজারে বড় ধরনের রূপান্তর ঘটছে। এই বাস্তবতায় বাংলাদেশি তরুণদের চাকরি প্রস্তুতিতে শুধু সনদনির্ভরতা নয়, দক্ষতাভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গি অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান চাকরির বাজারে একাডেমিক ডিগ্রির পাশাপাশি ডিজিটাল স্কিল, সমস্যা সমাধান ক্ষমতা এবং অভিযোজনযোগ্যতা সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। তথ্যপ্রযুক্তি, ডেটা অ্যানালিটিক্স, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার সিকিউরিটি, ডিজিটাল মার্কেটিং ও সফট স্কিল—এই ক্ষেত্রগুলোতে দক্ষ তরুণদের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে।
সরকারের পক্ষ থেকেও তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এসব সুযোগ কাজে লাগাতে তরুণদের আরও সচেতন ও আত্মপ্রণোদিত হতে হবে।
বর্তমান বাস্তবতায় চাকরি প্রস্তুতির একটি বড় অংশ হলো লাইফলং লার্নিং বা আজীবন শেখার মানসিকতা গড়ে তোলা। প্রযুক্তি দ্রুত বদলাচ্ছে, ফলে একবার শেখা দক্ষতা দিয়েই দীর্ঘদিন টিকে থাকা সম্ভব নয়। অনলাইন কোর্স, ইন্টার্নশিপ, প্রকল্পভিত্তিক কাজ ও স্বেচ্ছাসেবামূলক অভিজ্ঞতা তরুণদের বাস্তব দক্ষতা বাড়াতে সহায়ক হতে পারে।
এ ছাড়া যোগাযোগ দক্ষতা, দলগত কাজ, নেতৃত্ব ও নৈতিকতা—এই সফট স্কিলগুলো চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে দিন দিন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। শুধু চাকরিপ্রার্থী নয়, উদ্যোক্তা হওয়ার প্রস্তুতিও তরুণদের বিকল্প পথ খুলে দিতে পারে।
সব মিলিয়ে, বর্তমান বাস্তবতায় বাংলাদেশি তরুণদের চাকরি প্রস্তুতি হতে হবে দক্ষতাভিত্তিক, প্রযুক্তি সচেতন এবং বাস্তব অভিজ্ঞতা নির্ভর। সঠিক দিকনির্দেশনা ও ব্যক্তিগত উদ্যোগ থাকলে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার বাজারেও সফলভাবে নিজেদের জায়গা করে নেয়া সম্ভব।







কমেন্ট করুন