Dhaka Orthoniti | ঢাকা অর্থনীতি

ভ্রমণে হঠাৎ দেখা, তারপর ভালোবাসা — তিন দম্পতির বাস্তব প্রেমকাহিনি

বিনোদন রিপোর্ট:

ভ্রমণ অনেক সময় শুধু নতুন জায়গা দেখার অভিজ্ঞতা নয়, বদলে দিতে পারে মানুষের পুরো জীবনও। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে তিন দম্পতির এমনই বাস্তব প্রেমের গল্প, যেখানে একেবারেই অপ্রত্যাশিত মুহূর্তে শুরু হয়েছিল ভালোবাসা। এই গল্পগুলো দেখায়, কখনও কখনও ভাগ্যের ছোট একটি ঘটনাই হয়ে উঠতে পারে জীবনের বড় মোড়।

প্রথম গল্পটি শুরু হয় ভারতের একটি হাসপাতালে। ব্রিটিশ নাগরিক শার্লট ফিলিপস মায়ের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে পরিচিত হন আমেরিকান লেখক অ্যামি বি. শেরের সঙ্গে। শুরুতে দুজনের সম্পর্ক ছিল বন্ধুত্বপূর্ণ, কিন্তু একসঙ্গে সময় কাটাতে কাটাতে তাদের মধ্যে গভীর অনুভূতি তৈরি হয়। অ্যামি আগে কখনও নারীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়ানোর কথা ভাবেননি, তবুও সেই আকস্মিক পরিচয় তাদের জীবনের নতুন অধ্যায় খুলে দেয়। হাসপাতালের সিঁড়িতে বসে কথা বলতে বলতেই তারা বুঝতে পারেন, এই সম্পর্ক আর সাধারণ বন্ধুত্বে সীমাবদ্ধ নেই।

দ্বিতীয় গল্পটি যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরি অঙ্গরাজ্যে ১৯৮০ সালের এক তুষারঝড়ের রাতে। তরুণ জন মরিসের গাড়ি দুর্ঘটনায় পড়লে তিনি আশ্রয়ের খোঁজে একটি ফার্মহাউসে ঢুকে পড়েন। বাড়ির মালিক তখন উপস্থিত ছিলেন না। অপেক্ষা করতে গিয়ে তিনি ঘরের ছোটখাটো কাজও করে ফেলেন। পরে বাড়ির বাসিন্দাদের সঙ্গে দেখা হওয়া থেকেই শুরু হয় এক অপ্রত্যাশিত সম্পর্ক, যা ধীরে ধীরে ভালোবাসায় রূপ নেয়। ঘটনাটি প্রমাণ করে, বিপদজনক পরিস্থিতিও কখনও জীবনের সুন্দর অধ্যায় হয়ে উঠতে পারে।

আরেকটি গল্পে উঠে এসেছে ভ্রমণের মধ্য দিয়ে মানুষের আবেগ ও স্মৃতির শক্তি। প্রিয়জনের স্মৃতি ধরে রাখতে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ঘুরে বেড়ানোর অভিজ্ঞতা একজন নারীকে নিজের জীবন ও সম্পর্ক নতুনভাবে বুঝতে সাহায্য করে। ভ্রমণ তাকে শুধু অতীতের সঙ্গে নয়, নিজের সত্তার সঙ্গেও নতুন সংযোগ তৈরি করতে সহায়তা করে।

সিএনএনের ‘চ্যান্স এনকাউন্টারস’ ধারাবাহিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভ্রমণের সময় মানুষ দৈনন্দিন জীবনের চাপ থেকে দূরে থাকে এবং নতুন মানুষ ও অভিজ্ঞতার প্রতি বেশি উন্মুক্ত হয়ে ওঠে। তাই অনেক সময় অচেনা শহর, বিমানযাত্রা বা আকস্মিক সাক্ষাৎ থেকেই জন্ম নেয় আজীবনের সম্পর্ক।

বিশ্লেষকদের মতে, এসব গল্প শুধু প্রেমের নয়; বরং মানুষের সংযোগ, সহমর্মিতা এবং জীবনের অনিশ্চয়তার সৌন্দর্যের কথাও বলে। কারণ কখন, কোথায় এবং কীভাবে জীবনের গুরুত্বপূর্ণ মানুষটির সঙ্গে দেখা হয়ে যাবে—তা আগে থেকে কেউই জানে না।

ঢাকা অর্থনীতি

কমেন্ট করুন