ঢাকা, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬; স্টাফ রিপোর্টার:
বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে প্রকাশিত হয়েছে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেমোক্রেসি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (বিআইডিডি)-এর চতুর্থ নির্বাচন পূর্বাভাস প্রতিবেদন। “নির্বাচনবিজ্ঞান ভিত্তিক পূর্বাভাস–৪” শীর্ষক এই গবেষণায় ভোটার উপস্থিতি, ভোটদানের সময়সংকট, দলীয় মোবিলাইজেশন এবং সম্ভাব্য আসন বণ্টন নিয়ে বিশদ বিশ্লেষণ তুলে ধরা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এবারকার নির্বাচন একটি বহুমাত্রিক রাজনৈতিক বাস্তবতার মধ্যে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে ভোটগ্রহণ হবে এবং মোট ৬০টি দল নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। রাজনৈতিক ময়দানে প্রধানত দুটি বড় জোটের প্রতিদ্বন্দ্বিতা লক্ষ করা যাচ্ছে, পাশাপাশি ইসলামি দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি দেখাচ্ছেন।
ভোটদানের সময় সংকট, বড় বাস্তবতা: গবেষণায় বিশেষভাবে উঠে এসেছে ভোটদানের সময়সংকটের বিষয়টি। ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, এক ব্যালটে গড়ে ৭৬ সেকেন্ড সময় লাগে। কিন্তু এবার সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একসঙ্গে হওয়ায় ভোটদানের সময় বেড়ে ১০০ সেকেন্ড বা তারও বেশি হতে পারে।
প্রতিবেদনের হিসাব বলছে, ভোটদানের সময় ১০০ সেকেন্ড হলে সম্ভাব্য ভোটার উপস্থিতি ৬৪.৩ শতাংশে নেমে আসতে পারে এবং প্রায় ৩৫ শতাংশ ভোটার সময়ের কারণে ভোট দিতে না পারার ঝুঁকিতে থাকবেন।
বিআইডিডি সতর্ক করেছে, ভোটদানের সময় যত বাড়বে, উপস্থিতি তত কমবে—এবং এর ফলে নির্বাচনের ফলাফলেও বড় পরিবর্তন আসতে পারে।
সম্ভাব্য আসন বণ্টন: ২৯৯ আসনের সম্ভাব্য বণ্টন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট পেতে পারে ১৪৭ থেকে ১৮৮টি আসন; জামায়াত ও ইসলামি জোট পেতে পারে ৭৩ থেকে ১১০টি আসন; ইসলামিক আন্দোলন বাংলাদেশ ১ থেকে ৩টি আসন; স্বতন্ত্র প্রার্থী ২১ থেকে ২৮টি আসন; অন্যান্য দল ৪ থেকে ৬টি আসন পেতে পারে। প্রতিবেদন বলছে, মোট ৬০টি প্রতিদ্বন্দ্বী দলের মধ্যে ৭ থেকে ১০টি দল সংসদে প্রতিনিধিত্ব পেতে পারে। ২–৩ জন নারী প্রার্থীর জয়ের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
টার্ন আউট শক ও রাজনৈতিক সমীকরণ: বিআইডিডি তিনটি সম্ভাব্য টার্নআউট দৃশ্যপট তুলে ধরেছে—নিম্ন (৫৩–৫৮%), মধ্যম (৬০–৬৩%) ও উচ্চ (৬৫–৬৮%) উপস্থিতি । নিম্ন উপস্থিতির ক্ষেত্রে সংগঠিত ও আদর্শভিত্তিক ভোটারদের প্রভাব বাড়বে, যা ইসলামি জোটের পক্ষে যেতে পারে। মধ্যম উপস্থিতিতে দুই বড় জোটের মধ্যে আসন ব্যবধান কমে আসতে পারে। আর উচ্চ উপস্থিতিতে বৃহত্তর অংশগ্রহণের ফলে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের সম্ভাবনা বেশি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রশাসনিক সুপারিশ: প্রতিবেদন শেষে কয়েকটি প্রশাসনিক পদক্ষেপের সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে, যুব ভোটারদের দ্রুত ভোটদানে উৎসাহিত করা, ভোটকেন্দ্রে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা, দীর্ঘ লাইনে দাঁড়ানো ভোটারদের জন্য প্রয়োজনে সময় বাড়ানো এবং ভোটকেন্দ্রে অপ্রয়োজনীয় সময়ক্ষেপণ রোধ করা। আইডিডি বলেছে, এই নির্বাচন কার্যত “সময়-সীমাবদ্ধ ভোটার সক্রিয়করণ প্রতিযোগিতা” হয়ে উঠতে পারে। সুশৃঙ্খল, সংগঠিত ও নেটওয়ার্কসমৃদ্ধ দলগুলো তুলনামূলক সুবিধা পেতে পারে; অন্যদিকে নগরভিত্তিক বা কম সংগঠিত ভোটারনির্ভর দলগুলো টার্নআউট কমে গেলে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
সার্বিকভাবে, বিআইডিডির বিশ্লেষণ বলছে, ভোটদানের সময় ব্যবস্থাপনা ও ভোটার উপস্থিতিই এবারের নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল নির্ধারণে কেন্দ্রীয় ভূমিকা রাখবে। যদিও এটি কোনো নিশ্চিত ফলাফল নয়, তবু তথ্যভিত্তিক এই পূর্বাভাস নির্বাচন ব্যবস্থাপনা ও রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দিচ্ছে।








কমেন্ট করুন