Dhaka Orthoniti | ঢাকা অর্থনীতি

বাংলাদেশ নির্বাচনে পালাবদলের পেছনের কারণ কী?

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানিয়ে বলেন, মতপার্থক্য থাকলেও দেশের স্বার্থে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। তিনি এই বিজয়কে গণতন্ত্রের জন্য আত্মত্যাগকারী জনগণের প্রতি উৎসর্গ করেন।

নির্বাচন কমিশনের গেজেট অনুযায়ী, ২৯৯টি আসনের মধ্যে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট ২১২টি আসনে জয়লাভ করে সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোট পেয়েছে ৭৭টি আসন। যুব আন্দোলন থেকে উঠে আসা ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি সীমিত সংখ্যক আসনে জয় পায়, যা আন্দোলনের জনপ্রিয়তা ভোটে রূপান্তরের চ্যালেঞ্জকে সামনে আনে।

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূস বিএনপির এই বিজয়ে তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান এবং নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রস্তুতির কথা বলেন। আন্তর্জাতিক পর্যায়েও প্রতিক্রিয়া আসে; যুক্তরাষ্ট্র নতুন সরকারের সঙ্গে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও উন্নয়ন নিয়ে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই নির্বাচন শুধু রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তনের গল্প নয়; বরং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের ভোটারদের মানসিকতার প্রতিফলন। একটি বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিএনপির বিজয় মূলত ভোটারদের হতাশা, রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং ‘ফার্স্ট-পাস্ট-দ্য-পোস্ট’ নির্বাচনী ব্যবস্থার গাণিতিক প্রভাবের ফল।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, জামায়াতে ইসলামী ঐতিহাসিকভাবে বেশি আসন পেলেও তাদের সমর্থন অঞ্চলভিত্তিক ছিল এবং জাতীয় পর্যায়ে সমান ঢেউ তৈরি করতে পারেনি। বিপরীতে বিএনপি পরিচিত প্রার্থী ও শক্তিশালী সাংগঠনিক নেটওয়ার্কের সুবিধা পেয়েছে, যা বিশেষ করে গ্রামীণ ভোটারদের সিদ্ধান্তে বড় ভূমিকা রাখে।

বিশ্লেষণে আরও বলা হয়, অনেক ভোটার আদর্শগত পরিবর্তনের চেয়ে বাস্তব সুবিধা ও স্থিতিশীলতার কথা বিবেচনা করে ভোট দিয়েছেন। পরিচিত রাজনৈতিক শক্তির ওপর আস্থা এবং সম্ভাব্য বিজয়ী দলের সঙ্গে থাকার প্রবণতাও বিএনপির পক্ষে কাজ করেছে। একই সঙ্গে নারী ভোটার ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে বিতর্ক জামায়াতের বিস্তৃত সমর্থন গড়ে তুলতে বাধা সৃষ্টি করেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশে নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা হলেও সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হবে জাতীয় ঐক্য, স্থিতিশীলতা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক শাসন নিশ্চিত করা। বিএনপির এই জয় তাই শুধু ক্ষমতার পরিবর্তন নয়, বরং দেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক দিকনির্দেশনার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আল জাজিরায় প্রকাশিত ঢাকা ভিত্তিক সাংবাদিক ও কলামিস্ট আবু জাকির-এর কলাম থেকে অনুদিত।

ঢাকা অর্থনীতি

কমেন্ট করুন