Dhaka Orthoniti | ঢাকা অর্থনীতি

ডিজিটাল দক্ষতায় নতুন সম্ভাবনা: ঘরে বসেই আয় করতে পারেন ডলারে

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বর্তমান সময়ে অনলাইনে আয় আর স্বপ্নের বিষয় নয়; বরং সঠিক দক্ষতা থাকলে এটি হয়ে উঠতে পারে বাস্তব আয়ের পথ। প্রযুক্তির সহজলভ্যতার কারণে এখন অল্প সময় শিখেই বিভিন্ন ডিজিটাল স্কিল ব্যবহার করে ঘরে বসে আয় করছেন অনেক তরুণ–তরুণী। বিশেষজ্ঞদের মতে, মাত্র এক থেকে দুই মাসের প্রস্তুতিতেই কয়েকটি জনপ্রিয় দক্ষতা আয়মুখী পেশায় রূপ নেওয়া সম্ভব।

সবচেয়ে সহজভাবে শুরু করা যায় ক্যানভা ডিজাইন দিয়ে। গ্রাফিক ডিজাইনের জটিল সফটওয়্যার না জেনেও Canva ব্যবহার করে ইনস্টাগ্রাম পোস্ট, ইউটিউব থাম্বনেইল, পোস্টার বা প্রেজেন্টেশন তৈরি করা যায়। শুধু রঙের সমন্বয়, সঠিক ফন্ট নির্বাচন এবং পরিষ্কার ডিজাইন সম্পর্কে ধারণা থাকলেই শুরু করা সম্ভব। ছোট ব্যবসা ও অনলাইন উদ্যোক্তাদের জন্য ডিজাইন তৈরি করে মাসে ৩০০ থেকে ৬০০ ডলার পর্যন্ত আয় করা যায় বলে জানা গেছে।

এরপর রয়েছে কপিরাইটিং, যেখানে কঠিন ইংরেজি নয়, বরং সহজ ভাষায় মানুষকে আকৃষ্ট করার দক্ষতাই মূল বিষয়। সোশ্যাল মিডিয়া ক্যাপশন, ওয়েবসাইট কনটেন্ট, বিজ্ঞাপনের লেখা বা পণ্যের বিবরণ লিখে আয় করা সম্ভব। ব্যবসায় বিক্রি বাড়াতে ভালো লেখার চাহিদা সবসময় থাকায় এই খাতে মাসে ৩০০ থেকে ৭০০ ডলার আয় করার সুযোগ রয়েছে।

ছোট ভিডিওর জনপ্রিয়তায় বেড়েছে ভিডিও এডিটিংয়ের চাহিদা। CapCut, InShot বা DaVinci Resolve ব্যবহার করে রিলস, টিকটক ভিডিও ও ইউটিউব শর্টস এডিট করার কাজ দ্রুত পাওয়া যায়। কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য নিয়মিত ভিডিও এডিট করে মাসে ৪০০ থেকে ৭০০ ডলার আয় সম্ভব।

অন্যদিকে, অনেক ছোট ব্যবসা তাদের সোশ্যাল মিডিয়া পরিচালনায় হিমশিম খায়। ফলে সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজমেন্ট এখন একটি সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র। পোস্ট ডিজাইন, ক্যাপশন লেখা, কনটেন্ট পরিকল্পনা ও কমেন্ট রিপ্লাই দেওয়ার মতো কাজ করে মাসে ৩০০–৬০০ ডলার আয় করা যায়।

নতুন একটি ট্রেন্ড হলো নোশন টেমপ্লেট তৈরি। হ্যাবিট ট্র্যাকার, স্টাডি প্ল্যানার বা খরচ ব্যবস্থাপনার টেমপ্লেট একবার তৈরি করেই বারবার বিক্রি করা যায়। একইভাবে, বেসিক ওয়েব ডিজাইন—HTML, CSS ও JavaScript-এর প্রাথমিক জ্ঞান ব্যবহার করে ছোট ওয়েবসাইট বা ল্যান্ডিং পেজ তৈরি করে মাসে ৫০০ থেকে ৯০০ ডলার পর্যন্ত আয় করার সুযোগ রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একসঙ্গে অনেক কিছু শেখার চেষ্টা না করে একটি স্কিল বেছে নেওয়াই সফলতার চাবিকাঠি। প্রতিদিন অন্তত এক ঘণ্টা অনুশীলন, ছোট একটি পোর্টফোলিও তৈরি এবং সম্ভাব্য ক্লায়েন্টদের সঙ্গে যোগাযোগ—এই তিন ধাপই শুরু করার জন্য যথেষ্ট।

প্রথম আয় হয়তো খুব বড় পরিবর্তন আনবে না, কিন্তু আত্মবিশ্বাস তৈরি করবে। কারণ অনলাইন আয়ের জগতে সফলতার মূল শর্ত হলো অপেক্ষা নয়, বরং শুরু করার সাহস। আজ শুরু করলে আগামী ৩০ দিনের মধ্যেই একজন নতুন দক্ষ পেশাজীবী হয়ে ওঠা সম্ভব।

ঢাকা অর্থনীতি

কমেন্ট করুন