দেশজুড়েপ্রধান শিরোনামশিল্প-বানিজ্য
ছুটির দিনে দর্শনার্থীর সমাগমে মুখরিত বাণিজ্যমেলা
ঢাকা অর্থনীতি ডেস্ক:ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় শুক্রবার প্রথম ছুটির দিনে ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের ঢল নামে। শীত উপেক্ষা করে ক্রেতা-দর্শনার্থীর পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে পূর্বাচলের বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারের মেলাপ্রাঙ্গণ। স্টল ও প্যাভিলিয়নগুলোতে ছিল উপচে পড়া ভিড়। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দর্শনার্থীদের আগমন বাড়তে থাকে। বিকাল ৫টায় বাণিজ্যমেলা লোকে লোকারণ্য হয়ে পড়ে। দর্শনার্থীর সমাগমে বিক্রেতা, মেলার আয়োজক ও প্রবেশ টিকিটের ইজারাদার খুশি।
মেলার প্রধান প্রবেশদ্বার ‘৩৬ জুলাইয়ের’ স্মৃতির আদলে তৈরি করা হয়েছে। মেলায় বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে রয়েছে দেশি-বিদেশি ৩৬১টি স্টল। প্রধান প্রবেশদ্বারের পূর্ব পাশে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শহিদদের প্রতি সম্মান রেখে তৈরি করা হয়েছে ‘জুলাই চত্বর’ ও মূল ভবনের উত্তর পাশে ‘৩৬ চত্বর’। ভেতরে রয়েছে ইয়ুথ প্যাভিলিয়ন (তারুণ্যের বাংলাদেশ)। দর্শনার্থীদের বসার জন্য রয়েছে তিনটি সিটিং জোন। ব্যাংকিং লেনদেনের জন্য রয়েছে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক ও ইসলামী ব্যাংকের একাধিক বুথ।
মেলায় আসা শিশুদের জন্য রয়েছে শিশুপার্ক। মেলা পর্যবেক্ষণের জন্য ২৩৪টি সিসিক্যামেরার পাশাপাশি রয়েছে পাঁচটি ওয়াচ টাওয়ার। সতর্ক অবস্থায় রয়েছে পুলিশের একাধিক টিম। রাজধানীসহ নারায়ণগঞ্জ ও নরসিংদী জেলার লোকজন যেন নির্বিঘ্নে মেলায় আসতে পারেন সেজন্য অন্যান্য বছরের মতো রয়েছে বিআরটিসি বাস সার্ভিস।
টেক্সটাইল, পাট ও পাটজাত পণ্য, কার্পেট, প্রসাধনী, চামড়া ও কৃত্রিম চামড়াজাত পণ্যসহ বিভিন্ন পণ্য বাণিজ্যমেলার স্টলে স্থান পেয়েছে।
সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, প্রথম সাপ্তাহিক ছুটির দিনে মেলায় আসার প্রস্তুতি ছিল অনেকেরই। তাই অধিকাংশ দর্শনার্থীই অনলাইনে টিকিট সংগ্রহ করেছেন। ফলে মেলার প্রবেশদ্বারে ঠেলাঠেলি কিংবা চাপের মুখে পড়তে হয়নি। ছুটির দিন থাকায় সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ক্রেতা ও দর্শনার্থীরা মেলায় আসতে শুরু করেন। জুমার নামাজের পর দল বেঁধে তারা মেলায় প্রবেশ করেন।
বিকালে মেলার স্টল ও প্যাভিলিয়নে উপচে পড়া ভিড় জমে। ক্রেতা ও দর্শনার্থীরা স্টলগুলোতে তাদের পছন্দের পণ্য ঘুরে দেখেন ও কেনাকাটা করেন। বেশি ভিড় ছিল কাপড়, অলংকার, শো-পিস, তৈজসপত্র, কুটির শিল্প ও ইলেতট্রনিক্স পণ্যের স্টলে। বিক্রিও হয়েছে প্রচুর।
শুক্রবার দর্শনার্থীদের পদচারণা ছিল চোখে পড়ার মতো। দুপুরের পর থেকে বাড়তে থাকে ক্রেতা-দর্শনার্থীদের সমাগম। স্টলগুলোতে নারীদের ভিড় ছিল বেশি। পরিবার-পরিজন নিয়ে অনেকেই মেলায় এসেছেন। পছন্দের জিনিস কিনেছেন। প্লাস্টিক পণ্য, ক্রোকারিজ, ইমিটেশনের গয়না, শাড়ি, থ্রি-পিস, কসমেটিকসের স্টলগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় ছিল বেশি। মূল্যছাড়সহ বিভিন্ন অফার থাকায় ক্রেতারা আকৃষ্ট হচ্ছেন। মেলায় শিশুদের জন্য রয়েছে নজরকাড়া ডিজাইনের পোশাক, জুতা ও খেলনা। বিকাল ৩টার মধ্যেই মেলাপ্রাঙ্গণ ভরে যায়। নানা শ্রেণির ও নানা বয়সের মানুষের উপস্থিতিতে মুখর হয়ে ওঠে মেলাপ্রাঙ্গণ।